সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটেনি নরসিংদী জেলাবাসীর

২২ নভেম্বর ২০২৫

শুক্রবার নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। উৎপত্তিস্থল সরাসরি নরসিংদী হওয়ায় জেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। প্রতি মুহূর্তেই উদ্বেগে দিন কাটছে এখানকার বাসিন্দাদের।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে পুরো জেলা কেঁপে ওঠে। বিশেষত উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। আতঙ্কে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি শুরু করে। ভূকম্পনের প্রভাবে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার আগুন ধরে ব্যাপক ক্ষতি হয়। অন্য ট্রান্সফরমারগুলোর অধিকাংশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উৎপত্তিস্থল একাধিকবার কাঁপতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয়রা আরও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) পলাশ ও মাধবদী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মাঠে মাটি বসে গেছে, কলেজের প্রবেশপথে থাকা একটি টিনসেড ঘরের ভিত্তি ভেঙে চূর্ণ হয়েছে। ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের ভেতরে মাটির গভীর ফাটল তৈরি হয়েছে, কোথাও কোথাও ৬–৮ ইঞ্চি প্রশস্ত।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুনে বহু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই এলাকার ছয়টি বাড়ি এবং ‘এস এ প্লাজা’ নামে সাততলা শপিং মলে ফাটল দেখা গেছে। ঘোড়াশাল বাজারের কয়েকটি ভবনের ছাদ থেকে দেয়ালের ইট খুলে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নরসিংদী শহর, মাধবদী, পলাশ ও ঘোড়াশালজুড়ে একাধিক ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পের মুহূর্তে নরসিংদী শহরের গাবতলী এলাকায় ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে নিচের একতলা বাড়ির উপর পড়ে। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় বাড়ির মালিক দেলোয়ার, তার ছেলে ওমর এবং মেয়ে তাসফিয়া আহত হন। সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাবা ও ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে দুজনই মারা যান।

ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকদের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সকল তথ্য পাওয়া যাবে। নিহতদের দাফনের জন্য পরিবারগুলোকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পে নরসিংদীতে বাবা–ছেলেসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

সর্বশেষ