যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামী জুন-জুলাই মাসে। টিকিটের উচ্চমূল্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, বিশ্বকাপের টিকিটের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, স্বাগতিক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বাইরে সবচেয়ে বেশি টিকিট আবেদন এসেছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া থেকে। এর আগে ফিফা সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার পর্যন্ত, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনার মুখে গত মাসে ফিফা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। সংস্থাটি জানায়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের জন্য প্রতিটি ম্যাচে ৬০ ডলার মূল্যের নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট বরাদ্দ থাকবে। এসব টিকিট নিজ নিজ দেশের বিশ্বস্ত সমর্থকদের মধ্যে বিতরণের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর ওপর।
ফিফার প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের টিকিট বিক্রির সময়কালে (১১ ডিসেম্বর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল ম্যাচকে ঘিরে। ম্যাচটি আগামী ২৭ জুন ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য চাহিদা দেখা গেছে ১৮ জুন গুয়াদালাহারায় মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনাল, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ২ জুলাই টরন্টোতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচে।
তবে টিকিটের জন্য আবেদন করলেই বিশ্বকাপের খেলা দেখার নিশ্চয়তা মিলছে না। ফিফা জানিয়েছে, নিবন্ধিত আবেদনকারীদের টিকিট সংক্রান্ত ফলাফল ৫ ফেব্রুয়ারির আগে জানানো হবে না। যেসব ম্যাচে টিকিটের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি হবে, সেক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।



