জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। চাংখারপুল হত্যা মামলায় প্রকাশ্যে গুলি চালানো এক পুলিশ সদস্যের মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তিনি বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানান।
ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, যে পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে উল্লাস করতে করতে ভিডিও গেমের মতো গুলি চালাতে দেখা গেছে, তার এমন হালকা সাজা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্বিচার হত্যার বিচার চাওয়ার জন্য। অথচ আজ সেই দাবি আড়ালে চলে গিয়ে সবাই নির্বাচন ও ভোটের উৎসবে ব্যস্ত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনাস, ফাইয়াজ, রিয়া কিংবা মুগ্ধর মতো শহীদরা কেবল কোটা সংস্কারের জন্য নয়, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যস্ততার ভিড়ে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারগুলোর সীমাহীন কষ্ট আজ ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।
বর্তমান সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করে মীর স্নিগ্ধ বলেন, শহীদ পরিবারের শোক উপেক্ষা করে যেভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সন্তানের নিথর দেহে শেষবারের মতো চুমু দেওয়া কোনো মায়ের সামনে কিংবা রক্তাক্ত লাশ কাঁধে বহন করা বন্ধুর চোখের দিকে তাকানোর নৈতিক অধিকার আমাদের আছে কি না।
সমাজের এই নীরবতাকে কঠোরভাবে ধিক্কার জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, আজ যদি এই অবিচারের বিরুদ্ধে সবাই চুপ থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটে পড়লে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও কাউকে পাশে পাবে না।
মীর স্নিগ্ধর এই আবেগঘন ও প্রতিবাদী লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ও ন্যায়বিচার নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



