ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ-মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টারমারের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের নিশ্চিতকরণের পরেই কেবল লেবার সরকার বিষয়টি স্বীকার করেছে, যা নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও প্রতিরক্ষা চিত্র গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার ভোর ২টার মধ্যে ইরান চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরান থেকে ২,৩৬০ মাইল দূরে অবস্থিত এই লক্ষ্যবস্তুতে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই আঘাত হানতে পারেনি। একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ভূপাতিত করে এবং অন্যটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সমুদ্রে পড়ে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন-এ খবরটি প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার এটি নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়।
সরকারের বিরুদ্ধে ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার অভিযোগ বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারের এই আচরণকে ‘গোপনীয়তার সংস্কৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “লেবার সরকার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে তা লুকাতেই বেশি পছন্দ করে। জাতীয় নিরাপত্তার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো সরকারের দায়িত্ব।”
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ঘটনাকে একটি ‘জাতীয় কেলেঙ্কারি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গণমাধ্যমে খবর না এলে সরকার হয়তো এটি গোপনই রাখত।
ব্রিটেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস এলউড সতর্ক করে বলেছেন, ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী নয়। ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’-এর মতো কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্রিটেনের নেই। ইরান যদি ভবিষ্যতে ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ড বা অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালায়, তবে ব্রিটেনকে পুরোপুরি ন্যাটো মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইউরোপীয় মিত্রদের ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হয়েছেন।



