বিশ্বে নারীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ডেনমার্ক। অন্যদিকে, এই বৈশ্বিক তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫তম। জাতিসংঘের সহায়তায় প্রকাশিত জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) সূচকের ২০২৫-২৬ সংস্করণের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বের ১৮১টি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তাজনিত ১৩টি স্পর্শকাতর মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়।
শীর্ষে যারা ০.৯৩৯ স্কোর নিয়ে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। শীর্ষ পাঁচটি স্থানই দখল করে রেখেছে নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো। ডেনমার্কের পর পর্যায়ক্রমে অবস্থান করছে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। এছাড়া শীর্ষ ১০-এ রয়েছে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও নিউজিল্যান্ড। উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থানের সমতা, আইনি সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের শক্তিশালী অংশীদারত্বই এসব দেশকে শীর্ষে রেখেছে।
তলানিতে যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ দেশ তালিকার একবারে তলানিতে অবস্থান করছে আফগানিস্তান। ডেনমার্কের স্কোরের তিন ভাগের এক ভাগ স্কোর পেয়েছে দেশটি। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সিরিয়া, সুদান ও মিয়ানমারে নারীদের নিরাপত্তা সবচেয়ে নাজুক। প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকার নিচের সারিতে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতময় এলাকার মাত্র ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন।
দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের অবস্থান ডব্লিউপিএস সূচকে ০.৫২৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ১৫৫তম স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান (১৬৯তম) ও মিয়ানমার (১৭২তম)। তবে ভারত (১৩১তম) ও নেপাল (১২০তম) বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়ার মধ্যে নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুর (১৭তম), জাপান (২২তম) ও তাইওয়ান (২৭তম)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডব্লিউপিএস সূচক স্পষ্ট বার্তা দেয়—যে দেশ নারীদের জন্য যত বেশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সামগ্রিকভাবে সেই দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ততটাই মজবুত।



