দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)। ব্যালট সংগ্রহ থেকে বাক্সে ফেলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত কিছু বিশেষ নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
ভোটদানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া:
- পরিচয়পত্র ও ব্যালট সংগ্রহ: ভোট দিতে সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা নিজস্ব পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সঙ্গে রাখতে হবে। এমপিরা নিজ নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন।
- কাউন্টার ফয়েল জমা: ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ির নির্দিষ্ট স্থানে ভোটারকে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
- ভোট প্রদান: ব্যালটের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে থাকা খালি জায়গায় নিজের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর লিখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
- ব্যালট জমা: ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপারটি সংসদ কক্ষে নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
নষ্ট ব্যালট ও তাৎক্ষণিক সহায়তা: কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট বা বাতিল হলে তা ব্যালট বাক্সে ফেলার আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাচনকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। নির্বাচনকর্তা বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া ভোটদান চলাকালীন সংসদ কক্ষে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তৃতা বা ভাষণ দেওয়া যাবে না। কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা তৈরি হলে চিফ হুইপ অথবা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সাহায্য নিতে হবে।
ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ: বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই গণনা কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে মোট প্রদত্ত ভোট, বৈধ-অবৈধ ব্যালট এবং অব্যবহৃত ব্যালটের হিসাব সম্পন্ন করা হবে। এরপর প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ বৈধ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে।



