এআইয়ের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে তিন তরুণ, রাত কাটাতে হলো গিরিখাতে

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পথ দেখালেও, এবার এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করে চরম বিপদে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তিন পর্বতারোহী। গুগলের এআই চ্যাটবট ‘জেমিনি’র পরামর্শ নিয়ে মাউন্ট শাস্তা জয় করতে গিয়ে দুর্গম ও বিপজ্জনক এক গিরিখাতে আটকা পড়েন তারা। কোনো খাবার, পানি বা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ছাড়া পুরো রাত সেখানে কাটানোর পর শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের সহায়তায় অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন এই তিন অনভিজ্ঞ তরুণ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে।

যেভাবে ঘটল ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা তিন তরুণ গত ২৯ আগস্ট মাউন্ট শাস্তার ‘ক্লিয়ার ক্রিক ট্রেইলহেড’ থেকে যাত্রা শুরু করেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করা। এই পুরো অভিযানের পরিকল্পনা, দিকনির্দেশনা এবং খাবার ও পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে তারা ব্যবহার করেছিলেন গুগল জেমিনি, ইউটিউব ও অলট্রেইলস (AllTrails)।

একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত ও বিপত্তি নিরাপত্তাজনিত কারণে দুপুর ১২টার মধ্যে ফিরে আসার নিয়ম থাকলেও, জেমিনির পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে তারা রাত ৩টায় রওনা হয়ে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় চূড়ায় পৌঁছান। ফলে ফেরার পথটি পুরোটাই অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

  • পথ ভুল করা: অন্ধকারে নামার সময় মূল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘মাড ক্রিক ক্যানিয়নে’ ঢুকে পড়েন।
  • দুর্ঘটনা: প্রায় ১১ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পান।
  • খাবার ও পানির সংকট: জেমিনির পরামর্শে মাত্র ৮ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি নিয়েছিলেন তারা, যা দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

উপায় না দেখে রাত ১২টার দিকে কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছাড়াই তারা হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় গিরিখাতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যর্থ হেলিকপ্টার চেষ্টা ও হে হেঁটে উদ্ধার পরদিন সকালে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের রেঞ্জাররা তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। প্রবল বাতাসের কারণে দুইবার চেষ্টা করেও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রেঞ্জার ও ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ দলের সদস্যরা আহত তরুণকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এবং খাবার-পানি দিয়ে পায়ে হাঁটিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন।

উদ্ধারকারী দলের সতর্কবার্তা উদ্ধারের পর তরুণরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে জানান, তারা স্বকীয় বুদ্ধি ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ বাদ দিয়ে অন্ধভাবে এআই-এর ওপর ভরসা করেছিলেন।

মাউন্ট শাস্তা অ্যাভালাঞ্চ সেন্টারের পরিচালক নিক মেয়ার্স জানান, “চলতি বছর জেমিনিসহ বিভিন্ন এআই চ্যাটবটের ওপর ভুল নির্ভরতা রেখে মাউন্ট শাস্তায় একাধিক পর্যটক পথ হারিয়েছেন।” এআই-এর তথ্য শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে উল্লেখ করে দুর্গম স্থানে অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বাসযোগ্য মানচিত্র অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন রেসকিউ কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ