কিডনিতে পাথর হলে বুঝবেন কিভাবে?

৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে অন্যতম সাধারণ একটি সমস্যা হলো কিডনিতে পাথর (ক্যালকুলাস) জমা। প্রাথমিক অবস্থায় পাথরের আকার খুব ছোট হলে কোনো লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। তবে এটি কোথায় এবং কীভাবে রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ পায় নানা উপসর্গ। আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, তা বোঝার কিছু উপায়, কারণ এবং করণীয় নিচে আলোচনা করা হলো।

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ

  • পরিমিত পানি পান না করা বা শরীরে পানির স্বল্পতা।
  • বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস।
  • শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া।

প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ

  • ব্যথা: কোমরের পিছন দিকে বা কিডনির অবস্থানে তীব্র ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা অনেক সময় তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • প্রস্রাবের পরিবর্তন: প্রস্রাবের রঙ লালচে বা রক্তবর্ণ হওয়া।
  • অন্যান্য উপসর্গ: ঘন ঘন বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কোমরের পিছন দিকে ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রস্রাব হলে সাধারণত কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা কিছু পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • কিডনির এক্স-রে (X-Ray)
  • আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG)
  • প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা (Urine Routine & Culture)

পরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়। প্রাথমিক অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করলে পাথর দূর হতে পারে। তবে সমস্যা বেশি জটিল আকার ধারণ করলে অস্ত্রোপচারের (Surgery) প্রয়োজন পড়ে।

প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

  • প্রস্রাব না আটকানো: প্রস্রাবের বেগ এলে কখনোই তা চেপে রাখা যাবে না, দ্রুত প্রস্রাব করার অভ্যাস করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান: কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।
  • ইনফেকশনের চিকিৎসা: বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে কোনো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা: খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যুক্ত করতে হবে এবং দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

সর্বশেষ