টানা ৮ ঘণ্টা ঘুম ভালো, নাকি দুই ভাগে ভেঙে ঘুমালে শরীর সুস্থ থাকে— এই বিষয়ে আধুনিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের দুটি প্যাটার্নই ভালো। কোনটি আপনার শরীর, রুটিন ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে যায়, সেটাই আসল বিষয়।
আধুনিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে একটানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর মধ্যেই শরীর গভীর ঘুম, হালকা ঘুম ও তন্দ্রার মতো প্রতিটি ধাপ পার হয়। এই ধাপগুলো স্মৃতি, ইমিউনিটি, মনোযোগ, হরমোনের ব্যালান্স এবং সার্বিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মঞ্জুষা আগরওয়াল জানান, রাতের একটানা ঘুম মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, অনেকেই স্বাভাবিকভাবে ‘বাইফেসিক স্লিপ’ বা দুই ভাগে ঘুমানোর অভ্যাস করে ফেলেছেন, যেমন রাতে ৬–৭ ঘণ্টা ঘুমিয়ে দিনের বেলা ২০–৩০ মিনিটের জন্য অল্প করে বিশ্রাম নেওয়া। এই বিশ্রাম মানসিক সতেজতা, মনোযোগ ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
নিউরোলজিস্ট ডা. প্রশান্ত মাখিজা বলেন, দুই ভাগে ঘুমানো যেতে পারে। তবে শর্ত হলো, দুইটি ঘুমই দীর্ঘক্ষণ হওয়া উচিত। সাধারণত ঘুম ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার কম হলে শরীর দৈনিক ঘুম চক্র শেষ করতে পারে না। অনেকে মনে করেন রাতে ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সকালে আরো ৩ ঘণ্টা ঘুমালেই হবে, কিন্তু এই পদ্ধতি বেশিরভাগ মানুষেরই কাজে আসে না। কারণ, এতে ঘুমের নানা স্তর ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্ক নিজেকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায় না। বর্তমানের ব্যস্ত জীবন ও নির্দিষ্ট সময়সূচির কারণে একটানা ঘুমই অধিকাংশ মানুষের জন্য সহায়ক।



