৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ৫১ দফা ও ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫টি অধ্যায় ও ৫১ দফায় সাজানো নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন। ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা এবং ৯টি বিশেষ জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়েছে।

বিএনপির এবারের ইশতেহারের মূল ভিত্তি হলো জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা। দলটির ঘোষণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে— লুটপাট নয় উৎপাদন; ভয় নয় অধিকার এবং বৈষম্য নয় ন্যায্যতা।

৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি:

১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারগুলোকে মাসে ২৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য দেওয়া হবে। ২. কৃষক কার্ড: ভর্তুকি, কৃষি বীমা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। ৩. স্বাস্থ্যসেবা: ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ৪. শিক্ষা: বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু। ৫. তরুণ ও কর্মসংস্থান: কারিগরি শিক্ষা ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৬. ক্রীড়া: আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি। ৭. পরিবেশ: ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ ও ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন। ৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। ৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ চালু ও ই-কমার্স হাব স্থাপন।


ইশতেহারের ৫টি অধ্যায়:

  • প্রথম অধ্যায় (সংস্কার ও সুশাসন): গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং বিচার বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কার।
  • দ্বিতীয় অধ্যায় (সামাজিক উন্নয়ন): দারিদ্র্য নিরসন, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি।
  • তৃতীয় অধ্যায় (অর্থনীতি পুনর্গঠন): দেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া, পুঁজিবাজার সংস্কার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
  • চতুর্থ অধ্যায় (আঞ্চলিক উন্নয়ন): চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকাকে নিরাপদ মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলা।
  • পঞ্চম অধ্যায় (ধর্ম ও গণমাধ্যম): ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলটি এই ইশতেহারকে একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সর্বশেষ