যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত আজ ২৬তম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের শাসনতন্ত্রের পতনের পরিকল্পনা করলেও, তেহরানের বিধ্বংসী পাল্টা হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা কাটাতে এবং নিজ দেশে জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে এখন ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তেহরানের সামনে একটি বিশেষ ‘শান্তি প্রস্তাব’ পেশ করেছেন তিনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে একদিকে যেমন কঠোর শর্ত রয়েছে, অন্যদিকে ইরানের জন্য রাখা হয়েছে বড় কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা।
প্রস্তাবের মূল আকর্ষণ: অর্থনৈতিক মুক্তি
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ইরানের ওপর কয়েক দশক ধরে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চিরতরে তুলে নেওয়া। এর ফলে যেসব সুবিধা পেতে পারে ইরান:
- তেল রপ্তানি: দীর্ঘকাল ধরে স্থবির হয়ে থাকা ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় পুরোদমে সচল হবে।
- ব্যাংকিং ব্যবস্থা: আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে ইরান আবার যুক্ত হতে পারবে।
- আইনি নিশ্চয়তা: ইরান যদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো অবরোধ আরোপ না করার শক্তিশালী আইনি নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
কঠিন শর্তের বেড়াজাল
তবে এই সুবিধার বিনিময়ে ইরানকে মেনে নিতে হবে কঠিন কিছু শর্ত। যার মধ্যে প্রধান হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা আর অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হাতছানি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ইরান এখন কোন পথ বেছে নেবে, সেটিই দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তাপ কমাতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।



